শরিয়াহ বি'রোধী কোনো আইনকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না: বায়তুল মোকাররমের খতিব
শরিয়াহ বিরোধী কোনো আইনকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না: বায়তুল মোকাররমের খতিব
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি :
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বলেছেন, কোরআন ও হাদিসবিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা এমনিতেই বাতিল। শরিয়াহবিরোধী কোনো আইনকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী
সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনী, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়। মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু দেশীয় ব্যবস্থাপনা আইনকে ইসলামী শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত এমন কোনো আইন প্রণয়ন ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে, যা কোরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি, তা সংশোধন বা বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শরিয়াহবিরোধী আইনের শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কাদিয়ানিদের প্রসঙ্গে
মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী নানা নিদর্শন দেখা যায়। কিন্তু তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানিদের বিশ্বাসের সমালোচনা করে তাদের ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। তারা নিজেদের নিজ নিজ ধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু কাদিয়ানিদের নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আকিদাগত বিতর্ক রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন দর্শন অনুসরণ, ইসলামী
মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং ধর্মীয় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকেই কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এম এ কুদ্দুস কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স